চীনের শিবির উড়িয়ে দিতে ট্যাং’ক-ক্ষে’পণাস্ত্রসহ ৪৫ হাজার সেনা পাঠাল ভারত। বিস্তারিত ভিতরে 

বিতর্কিত লাদাখের গালওয়ান উপত্যাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডের ৯ কিলোমিটার এলাকা দখল করে ১৬টি সেনা শিবির বানিয়েছে চীন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে টি-৯০ ট্যাংক, কামান, বিমান বি’ধ্বংসী ক্ষে’পণাস্ত্রসহ ৪৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে ভারত।রোববার (২৮ জুন) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এমনটা বলা হয়েছে। খবরে স্যাটেলাইটে ধরা পড়া চীনা স্থাপনার ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।গণমাধ্যমটির সংবাদে বলা হয়েছে, ২২-২৬ জুনের ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গালওয়ানে ১৫ জুন সংঘর্ষের স্থানে অবকাঠামো তৈরি করেছে চীন।বলা হচ্ছে, ১৪ নম্বর টহল পয়েন্টটি ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু সেই স্থানে একের একের পর অবকাঠামো তৈরি করে সেনা বাড়াচ্ছে বেইজিং।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দাদের দাবি, গালোয়ান নদী বরাবর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে প্রায় ১৩৭ মিটার অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে চীন। বলা হচ্ছে ওই এলকায় দীর্ঘদিন থেকে টহল দিচ্ছে ভারতীয় বাহিনী গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কালো ত্রিপলের ছবি সম্প্রতি ধরা পড়েছে উপগ্রহ চিত্রে। সেই ত্রিপল চীনা বাহিনীর; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই সম্ভাবনায় জোর দেয়া হয়েছে। এনডিটিভির হাতেও এসেছে সেই চিত্র। বলা হচ্ছে, সেই সেক্টরে ৯ কিমির মধ্যে প্রায় ১৬টি শিবির চিহ্নিত করেছে স্যাটেলাইট ছবি।

সামরিক স্তরের আলোচনায় চীন বাহিনী সরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, সেটা খাতায়-কলমে। শুধু তাই নয় প্রকৃত সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এলাকায় ব্যাপক সামরিক সম্ভার বাড়াচ্ছে বেজিং।আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, পূর্ব লাদাখে সব রকম খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সেখানে ৪৫ হাজার সেনা, টি-৯০ ভীষ্ম ট্যাঙ্ক, ভূমি থেকে আকাশমুখী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এয়ার সার্ভেল্যান্স সিস্টেমও বসানো হয়েছে।বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের মতে, ভারত এখন যে সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার লক্ষ্য মূলত হল, চীন যাতে নতুন করে আর জমি দখল করতে না পারে। ফিঙ্গার চার থেকে আট এবং গালওয়ান উপত্যকার মতো এলাকা যাতে হাতছাড়া না হয়। কিন্তু গালওয়ানে দখল হওয়া কয়েকশ বর্গ কিলোমিটার জমির কী হবে?

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত যেমন বন্ধুত্ব জানে, তেমনই চোখে চোখ রেখে কথা বলতেও জানে। চীনের মোকাবিলায় ভারত যে প্রয়োজনে কড়া মনোভাব নিতে দ্বিধা করবে না, মাসের শেষ রোববার (২৮ জুন) ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে ভারতবাসীকে সেই বার্তাই দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।তিনি বলেন, লাদাখে ভারতীয় ভূখণ্ডের দিকে যারা নজর দিয়েছিল, তাদের সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে।’পাশাপাশি এসেছে, নাম না-করে চীনা পণ্য বয়কটের প্রসঙ্গও, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রাপ্ত আসামের এক নাগরিকের মন্তব্যের প্রসঙ্গ এনে নরেন্দ্র মোদী বলেন, পূর্ব লাদাখের ঘটনার পরে উনি শুধুমাত্র দেশীয় পণ্য কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।এছাড়া গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলে মোদী এ দিন বলেন, আমাদের বীর সেনারা দেখিয়ে দিয়েছেন তাঁরা কোনও অবস্থাতেই ভারতমাতার গৌরবে আঁচ আসতে দেবেন না।সুত্র- এনডিটিভি, আনন্দবাজার