এবার নিউজিল্যান্ডে সব ধর্মের নারীদের হিজাব পরার ঘোষণা - সিটি২৪বিডি
মঙ্গল. ফেব্রু ২৫, ২০২০

এবার নিউজিল্যান্ডে সব ধর্মের নারীদের হিজাব পরার ঘোষণা

শান্তির দেশে নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে দেশটির সব ধর্মের মানুষ হিজাব পরে মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবে। ফাইল ছবি ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় মুসল্লিদের ওপর চালানো স্মরণকালের ইতিহাসের বর্বরোচিত হামলায় নিউজিল্যান্ডজুড়ে হিজাব পরে প্রতিবাদ জানানো হবে।শান্তির দেশে নৃশংস এ হামলার প্রতিবাদে দেশটির সব ধর্মের মানুষ হিজাব পরে মুসলিমদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবে। ‘সম্প্রীতির জন্য হিজাব’ নামে এই কর্মসূচিটি আগামী ২২ মার্চ শুক্রবার পালন করা হবে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের মানুষ এই ঘটনায় শোকাহত। শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারানো ৫০ জন মা, বাবা, সন্তান, সহকর্মী ও বন্ধুদের প্রতি আমরা ভালোবাসা ও সহমর্মিতা জানাতে চাই।মুসলিম কমিউনিটি যে অসহনীয় অবস্থার স্বীকার হয়েছে, এ কঠিন দুঃসময়ে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে মুসলিমদের সঙ্গে কাজ করা থায়া আশমান নামের এক নারী অভিনব এ আয়োজনের উদোক্তা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মুসলিমদের সঙ্গে কাজ করছেন।

আফগানিস্তানে স্বেচ্ছাসেবী ডাক্তার হিসেবে কাজ শুরুর পর তিনি মুসলিমদের সান্নিধ্যে আসেন। মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের উদারতা তাকে উৎসাহিত করেছে। আশমান বলেন, আমি এক আতংকিত নারীর কথা শুনেছি যিনি হিজাব পরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।কারণ হিজাব পরার কারণে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। আমি বলতে চাই, ‘আমরা আপনার সঙ্গে আছি, আমরা চাই আপনি ঘরের মতো রাস্তাতেও যেন নিরাপদবোধ করেন, আমরা আপনাকে ভালোবাসি, সমর্থন ও শ্রদ্ধা করি’।’ আশমান আগামী শুক্রবার নিউজিল্যান্ডবাসীকে হিজাব পরার আহ্বান জানান।

আরো পড়ুন-ইসলামি স্থাপত্যের মাস্টার পিস তুরস্কের ‘নীল মসজিদ’ যা ৪০০ বছর ধরে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছেইউরোপে মসজিদের শহর নামে পরিচিত তুরস্কের ইস্তাম্বুল। উসমানীয় স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত নীল মসজিদের প্রযুক্তিগত সৌন্দর্য সত্যিই দারুণ ও চিত্তাকর্ষক। নামাজের সময় ছাড়া বাকি সময়টাতে সব ধর্মের লোক এখানে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু সবাইকে মার্জিত পোশাক পড়ে সেখানে ঢুকতে হয়।

তুরস্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বলা হয় একে। এই মসজিদে প্রবেশ করার জন্য সবসময় ভিড় লেগে থাকে। এই মসজিদকে ইসলামী স্থ্যাপত্যের মাস্টার পিস বলা হয়ে থাকে। এই সুন্দর মসজিদের স্থপতি মুহাম্মদ আগা।এই মসজিদটি নির্মাণের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাইজান্টাইন রাজপ্রাসাদ,উসমানী আমলের অনেক অভিজাত ব্যাক্তিদের নিজস্ব প্রসাদ। এই মসজিদের অভ্যন্তরের দেয়াল নীল রঙের টাইলস দিয়ে সুসজ্জিত বলে এই মসজিদটি নীল মসজিদ ব্লু মস্ক নামে পরিচিত।

এটি ১৬০৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৬১৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে উসমানীয় সম্রাজ্যের সুলতান আহমেদ নির্মাণ করেন। মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি মাদরাসা, একটি পান্থনিবাস এবং প্রতিষ্ঠাতার সমাধি অবস্থিত। মসজিদটির মূল একটি গম্বুজের পাশাপাশি আটটি গম্বুজ রয়েছে। মূল গম্বুজটির উচ্চতা ৪৩ মিটার।মসজিদের চার কোণে চারটি ও পেছনে আরো দুইটিসহ মোট ছয়টি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মসজিদের মিনার ও গম্বুজগুলো নীল-সাদা সীসার গাঁথুনি দ্বারা আচ্ছাদিত এবং মিনার ও গম্বুজের ওপরের ভাগ সোনার প্রলেপযুক্ত তামায় নকশাকৃত।

ভেতরের দেয়ালগুলোর উপরিভাগে বাহারি কারুকাজ ও নকশাচিত্রের পাশাপাশি কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের ক্যালিগ্রাফি রয়েছে। ক্যালিগ্রাফিগুলো তৈরি করেছেন, সেসময়ের সেরা ক্যালিগ্রাফার সাইয়িদ কাসিম গুবারি। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২৪০ ফুট ও প্রস্থ ২১৩ ফুট।