ক্রেতারা হুমড়ি খেয়েছে বাজারে, দাম বাড়ছে নিত্য পণ্যের

0
20

ফরিদপুরে এখনো পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বব্যাপী প্রাদূর্ভাবের পর দেশব্যাপীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর ঝুঁকি বাড়তে থাকায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুজবেও আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।এরই মাঝে আতঙ্কিত মানুষ ঘরে নিত্য পণ্যের মজুদ গরে তুলতে বাজারে কেনাকাটার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। এই সুযোগে দ্রব্যমূল্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে হুহু করে। আজ শুক্রবার ফরিদপুরের জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার বাজারেও মানুষদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রয়োজনের অধিক কিনতে দেখা গেছে। সংকটকালীন সময়ের জন্য মজুদ গড়ে তুলতেই তাদের এ প্রবণতা। গত বুধবার সন্ধা হতে এ প্রবণতা শুরু হয়। আর বৃহস্পতিবার সন্ধায় তা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে বাজারের এক ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন, যেনো চাঁদ রাত (ঈদের আগের রাত) পরেছে শহরে।

ফরিদপুরের চকবাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জনি জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হতে বাজারে নিত্য পণ্যের দোকানগুলোতে ঈদের আগের রাতের মতো ভিড় জমে যায়। মানুষ চাল,ডাল, আটা, চিনি, সাবান সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র কেনার জন্য লাইনে দাড়িয়ে যায়। মাছ, মাংশের দামও বেড়ে গেছে।একই অবস্থা দেখা যায় শহরের হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার, টেপাখোলা বাজার সহ বিভিন্ন বাজারেও। কাঁচামালের দামও এক লাফে দ্বীগুন হয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে শুক্রবার সকালে ৩০ টাকার পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাড়ায় ৬৫ টাকা কেজি দরে।

বাজারে চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি গড়ে ৫ টাকা দরে। বস্তা প্রতি ৩শ’ টাকা বেড়ে গেছে এ দাম। শুধু জেলা শহর নয়, উপজেলা পর্যায়েও একই দশা। নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। মোবাইল ও কম্পিউটারের বিভিন্ন পার্টস সারাতে এখন এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে দ্বীগুনেরও বেশি দামে।এ প্রেক্ষিতে ফরিদপুরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তা তা অপ্রতুল। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো সোহেল মেখ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ জাকির হোসেন শহরে অভিযান পরিচালনা করে মেসার্স রামকৃষ্ণ ভান্ডারের বিমল সাহজাকে ১৫ হাজার টাকা বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের হাফিজুর রহমানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। চালের দা বেশি নেয়ায় তাদের এ জরিমানা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক বজলুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযানের পরেও দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক হয়নি বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে ব্যবসায়ীদের মতামত হচ্ছে, ক্রেতাদের এমন ভিড় দেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম কিছুটা বেশি রাখছেন।

ফরিদপুরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বলছেন, মানুষ আত’ঙ্কিত হয়ে এসব পণ্যের মজুদ গড়ছে। আই এই সুযোগে কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নেবে এটিই স্বাভাবিক। আর পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় অনেকের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।বাজারে এসব নিত্যপণ্যের দামের পাশাপাশি মাস্ক, গ্লোভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজারেরও দাম বেড়েছে। এসব পণ্যের সংকট বিরাজ করায় ক্রেতারা উচ্চ মূল্যেই সেসব কিনছে।ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রয়েছে। বাজারে কোন পণ্যের ঘাটতি হয়নি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে পরিস্থিতি খারাপ করবেন না। বাজার পরিদর্শনে কাউকে অনিয়ম বা অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকতে দেখলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, করোনা ভাইরাস ও উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, শুক্রবার পর্যন্ত জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৫শতাধিক বিদেশ ফেরতকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এছাড়া নগরকান্দা উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় চরযশোরদী ইউনিয়নের শ্রীবরদি গ্রামের আজিজুল ইসলাম (৪০) কে ১০ হাজার টাকা ও ফুলসূতি ইউনিয়নের হিয়াবলদী গ্রামের মজিবর রহমানে (৩৭) কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।