ফোর্বস ২০২০-এর বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীরা

ছবি সংগীত
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বস ২০২০-এর বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ৩০টি দেশের বিভিন্ন বয়সী নারীদের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান আছেন ১০ জন। ৩৮ জন বিভিন্ন কোম্পানির সিইও।

বিনোদন জগতের পাঁচজনও এসেছেন ক্ষমতাধর নারীদের এ তালিকায়। টানা দশমবারের মতো এ তালিকার শীর্ষস্থানে আছেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ক্রিস্টিন লগার্ড। এবারই প্রথম বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত কমলা হ্যারিসের নাম এসেছে, প্রথমবারই তিনি আছেন তৃতীয় স্থানে।

চতুর্থ স্থানে আছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন। মেলিন্ডা গেটস আছেন পঞ্চম স্থানে। করোনাভাইরাস মহামারী সামলাতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সাফল্য এবং প্রশংসা পাওয়া নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরর্ডন আছেন এবারের তালিকার ৩২তম স্থানে। এ বছর টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ক্ষমতাধর নারীদের এ তালিকায় ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আছেন ৪১তম স্থানে।

মারিকা লুকাস রিনভেল্ড

‘দ্য ডিসকমফোর্ট অব ইভিনিং’ উপন্যাস লিখে ২০২০ সালের বুকার জয় করেছেন প্রথম ডাচ ঔপন্যাসিক মারিকা লুকাস রিনভেল্ড। উপন্যাস লিখেছেন ২৬ বছর বয়সে। আর ২৯ বছরে এসে ওই বইয়ের জন্য বুকার জয় করেছেন। ২০২০ সালে বুকারের জন্য ৩০টি ভাষার ১২৪টি বই নির্বাচিত করা হয়। তা থেকেই চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন লেখক মারিকা লুকাস রিনভেল্ড আর অনুবাদক মাইকেল হ্যাচিসন।

জাওয়াহির রোবেল

জাওয়াহির রোবেল যুক্তরাজ্যের প্রথম ব্রিটিশ মুসলিম নারী রেফারি (ফুটবল)। সংবাদমাধ্যম ডেইলি টেলিগ্রাফ তাকে ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্রিটিশ ফুটবল রেফারি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

স্তেফানি ফ্রাপা

পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন লিগে প্রথম নারী রেফারি ফ্রান্সের স্তেফানি ফ্রাপা। ২ ডিসেম্বর তিনি পুরুষদের চ্যাম্পিয়ন লিগের ম্যাচ পরিচালনা করেন।

সাই ইং

দ্বিতীয় মেয়াদে এ বছরে ‘দ্য ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি)’ তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট হন সাই ইং। ৫৭ ভাগ ভোট পেয়েছেন সাই ইং। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চীনপন্থী নেতা হান কুও-ইউ। তিনি পেয়েছেন ৩৮ ভাগ ভোট। সাই ৮১ লাখ ৭০ হাজার ভোট পেয়েছেন। আর হান কুও-ইউ পেয়েছেন ৫০ লাখ ৫২ হাজার ভোট। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫৬ শতাংশ ভোট নিয়ে ৫৯ বছরে পা দেয়া সাই দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হন।

জেসিন্ডা আরডার্ন

নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন সমর্থিত লেবার পার্টি থেকে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। করোনাকালীন লেবার পার্টির নেয়া ব্যবস্থা ও ভূমিকা নিউজিল্যান্ডবাসীকে মুগ্ধ করেছে। তাই আবারও দেশটির অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে লেবার পার্টির প্রতিশ্রুতিতে জনগণ বিশ্বাস রেখেছে। বিশ্বের রাজনৈতিক আলোচনায় এখন ‘জেসিন্ডা’ নামটি সরবে উচ্চারিত। জেসিন্ডা দেশটির তৃতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী।

টিউলিপ সিদ্দিক

১৪ জানুয়ারি বৃটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় ছায়া উপমন্ত্রী নির্বাচিত হন টিউলিপ সিদ্দিক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিক তৃতীয়বারের মতো ২৮ হাজার ৯৭৭ ভোট পেয়ে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসনে জয়ী হন।

ইভাঙ্কা ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ও উপদেষ্টা ইভাঙ্কা ট্রাম্প ‘ফ্রেন্ডস অব ইসরাইল’ পদক পান। একজন সফল নারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা হিসেবে ইভাঙ্কা নারী নেতৃত্ব ও পারিবারিক মর্যাদার জন্য অনুপ্রেরণা।

সানা মাইরেলা ম্যারিন

কোভিড ১৯-এর সময়ে করোনা মোকাবেলায় সফলতার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন ফিনল্যান্ড প্রধানমন্ত্রী সানা মাইরেলা ম্যারিন। করোনার কঠিন আঘাতেও লকডাউনে যায়নি দেশটি। বরং জনসচেতনতা আর সরকার গৃহীত জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ কোভিড ১৯-এর করাল থাবা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০ মার্চ বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ নির্বাচিত হয় ফিনল্যান্ড। একই দিনে দেশটিতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী সানা ম্যারিন বিচলিত না হয়ে শুরু থেকেই জনগণকে ব্যাপকভাবে সচেতন করার উদ্যোগ নেন। দেশটির অধিকাংশ মানুষ সংবাদপত্র না পড়লেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থাকে। সচেতনতা বাড়াতে অনলাইন প্রচারণায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন সানা।

নাটালি পোর্টম্যান

নাটালি পোর্টম্যান। সুঅভিনেত্রী আর অস্কারজয়ী নাটালি এবারে আলোচ্য হয়েছেন শিশুসাহিত্যিক হিসেবে।

নিজের লেখা প্রথম বই “ন্যাটালি পোর্টম্যান’স ফেবলস” প্রকাশনা সামনে রেখে ৩৯ বছর বয়সী জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিছুদিন আগে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়ে আলোড়ন তুলেছেন। বইটি বাজারে আসবে ২০ অক্টোবর। বইটি মৌলিক ঘরানায় নয়। কয়েকটি প্রচলিত উপকথা নিজের সাবলীল ভাষায় সাজিয়ে লিখেছেন।

এরনা সোলবার্গ

এরনা সোলবার্গ বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নারী রাজনীতিবিদ। এরনা হলেন গ্রো হারলেম বরুন্দতল্যান্ডের পর নরওয়ের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়- তিনি নরওয়ের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়া নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয় নেত্রী। করোনার কঠিন সময়ে নারী নেতৃত্বে দৃশ্যত সফলতা দেখিয়ে যাচ্ছেন এরনা। কঠিন লকডাউন দিয়ে জনগণকে ঘরবন্দি না করে দূরদর্শী আর কৌশলেই সামলে নিয়েছেন করোনার কঠিন সমীকরণ।
সূত্র যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *