রাষ্ট্র মানুষকে অসৎ হওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে : রুমিন। 

রাষ্ট্র মানুষকে অসৎ হওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি দলীয় মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে দলীয় এমপিদের এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।বাজেট ‘পর্যালোচনা ২০২০-২১ ও চলমান করোনা পরিস্থিতি’ বিষয়ক আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা বলেন, ভার্চুয়ালি বাজেট আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার তা করেনি। কারণ তারা আঁচ করতে পেরেছিল যে জঘন্য বাজেট দেয়া হয়েছে তা থেকে সমালোচনা আসবে। এ সমালোচনা এড়াতে এক মাস যাবৎ ভার্চুয়ালি বাজেট আলোচনা না করে তড়িঘড়ি করে একদিনের বাজেট আলোচনা করা হয়েছে, যা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, বাজেটে কালো টাকা সাদার সুযোগ ঢালাওভাবে দেয়া হয়েছে, যা নজিরবিহীন। সৎ করদাতারা দেবেন ৩০ শতাংশ আর অসৎরা দেবেন ১০ শতাংশ। অর্থাৎ রাষ্ট্র মানুষকে অসৎ হওয়ার প্ররচণা দিচ্ছে। সরকার প্রণোদনার নামে ধনীদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছে।স্বাস্থ্য খাতে বাজেটে বরাদ্দ না বাড়িয়ে মেগা প্রকল্পের দিকে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি করতেই সরকার স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে মেগা প্রকল্পের দিকে আগ্রহী হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে যা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তার অধিকাংশই দুর্নীতিতে চলে যাবে।

স্বাস্থ্যখাতের দুরবস্থা ও বিভিন্ন কেলেঙ্কারি তুলে ধরে নবীন এ আইন প্রণেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নিজে বলেছেন, দুর্নীতি না হলে দেশের চেহারা আরও পাল্টে যেত। প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানুষ জানতে চায় গত ১০ বছরে যে দুর্নীতি, লুটপাট হয়েছে তার বিরুদ্ধে আপনি কী ব্যবস্থা নিয়েছেন।তিনি বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ নেই। উপজেলাপ্রতি পাঁচটি এবং জেলাপ্রতি ২০টি করে আইসিইউ বেড করতে সারাদেশে তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। অথচ আইসিইউ বেডের অভাবে মানুষ রাস্তায় ছোটাছুটি করছে। এদিকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে, পাচার হচ্ছে।

ইন্টারনেটে সাধারণ মানুষ লেখাপড়া করছে এখন সেখানে কর আরোপ করা হচ্ছে। অথচ ধনীদের ব্যবহার্য জিনিসের দাম বাড়ানো হচ্ছে না।বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তারও কঠোর সমালোচনা করে রুমিন বলেন, করোনাকালীন এ বাজেট কিছুই না।ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনা করতে গিয়ে বিএনপির এই এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ কয়েকটি নীতির ওপর টিকে আছে-দুর্নীতি, বিরোধী দল নির্যাতন আর ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনসহ বিভিন্নভাবে ভিন্নমত দমন। এ নীতিগুলো নিয়ে তারা টিকে আছে।তিনি বলেন, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দেশে আইনের শাসন নেই উল্লেখ করে রুমিন বলেন, আইনের শাসন থাকলে আমার নেতা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে যে পরিমাণ কটূক্তি হয় তাতে আওয়ামী লীগের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথা।ভার্চুয়াল সভাটি সঞ্চালনা করেন বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।সভার শুরুতে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. আমিনুল ইসলাম। পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের মো. জাহিদুর রহমান জাহিদ, বগুড়া-৪ আসনের মো. মোশারফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ মো. হারুনুর রশীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ উকিল আব্দুস সাত্তার বক্তব্য রাখেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ ভার্চুয়াল সভা আয়োজন করা হয়েছে বলে গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ জানান।