কাদের – নাছিম বাকবিতণ্ডা আ.লীগ সভাপতি কার্যালয়ে - সিটি নিউজ
শুক্র. এপ্রি ৩, ২০২০

কাদের – নাছিম বাকবিতণ্ডা আ.লীগ সভাপতি কার্যালয়ে

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কর্মীদের প্রবেশ নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর জন্য নির্ধারিত কক্ষে ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতাদের নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করে তারা বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাহাউদ্দিন নাছিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা বড় কোনো ঘটনা নয়, একটু ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।’

কার্যালয়ে উপস্থিত আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, কার্যালয়ের ভেতরে কর্মীদের প্রবেশে একটি অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে দলের সাধারণ সম্পাদকের। ফলে কর্মীদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশে ভীতি কাজ করে। তবে নাছিম সাহেবসহ আমরা মনে করেছিলাম আজকে ওবায়দুল কাদের পার্টি অফিসে আসবেন না। সে ধারণা থেকে সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান আতা, পাবনার আরিফসহ আরও কয়েকজন ছাত্রনেতাকে নিয়ে কথা বলছিলেন নাছিমসহ কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা। এরই মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন ওবায়দুল কাদের। ঢুকেই তিনি সরাসরি সম্পাদকমণ্ডলীর ওই কক্ষে যান এবং উচ্চস্বরে বসে থাকা সাবেক নেতাদের বলেন, ‘তোমরা কারা? এখানে কেন ঢুকেছ?’

তিনি আরও বলেন, “এরপর কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘আমি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আমার নির্দেশ তোমরা মান না।’ জবাবে নাছিম বলেন, ‘আমিও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আমারও কর্মীদের নিয়ে বসে কথা বলার রাইট আছে। তাছাড়া যাদের নিয়ে বসেছি তারা সবাই দলের, কেউ রাস্তার লোক নয়।’ এ ধরনের বাক্য বিনিময়ে কার্যালয়ের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাছিম আরও বলেন, ‘দলীয় কার্যালয় কারও বাপের সম্পত্তি নয়, এটা সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়। এখানে কর্মীরা আসবেই নেতাদের কাছে, বসবে, কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক।’ সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনার জন্য থাকা নির্ধারিত কক্ষে তো আমরা বসিনি।’ জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি দেখে নেব। নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) জানাব।’ জবাবে নাছিম বলেন, ‘জানান। নেত্রীও কারও একার নয়, তিনি সবার।’ এ ধরনের বাহাস প্রায় আধা ঘণ্টা চলে। পরে ওবায়দুল কাদের বের হয়ে যান। এ পরিস্থিতি তৈরি হলে কার্যালয়ে থাকা নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি করে যে যার মতো বেরিয়ে যান।”

আওয়ামী লীগ সম্পাদকমণ্ডলীর আরেক সদস্য বলেন, ‘কার্যালয়ে প্রবেশের অলিখিত বিধিনিষেধের কারণে অনেকেই আসেন না এখানে। যারা আসেন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকেন। নেতারা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গেলে কর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘অলিখিত এই বিধিনিষেধ উঠিয়ে দেওয়া উচিত।’