বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশব্যপী বিক্ষোভ। - সিটি২৪বিডি
মঙ্গল. ফেব্রু ১৮, ২০২০

বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশব্যপী বিক্ষোভ।

আন্দোলন করেই কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার বিকেলে খালেদা জিয়ার কারাবন্দীর ২ বছর পূর্তি উপলক্ষে তাঁর মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপি রাজপথে হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করলেও নেতাকর্মীরা মাঠে না নামায় সে কর্মসূচি ব্যর্থ হয়। এর পর হাকডাক করে সমাবেশ ডাকলে অনেকেই মনে করেছিল এ সমাবেশ থেকে হয়তো আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সমাবেশে মঞ্চের বক্তব্যে হুঙ্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলের সিনিয়র নেতারা। আবারও দায়সারা বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও কখন কিভাবে কোন ধরণের কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি পালন করবেন তা দলের কোন নেতাই তা বলতে পারেননি।

ঢাকার ২ সিটি নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, মাত্র ১৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জনগণের মেয়র হওয়া যায় না। এ ছাড়া এ নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি হয়েছে। তাই এ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোটের মাধ্যমে জনগণের মেয়র নির্বাচিত করতে হবে। আর বর্তমান সরকারকে বলবো অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিন। ফখরুল বলেন, ১ লাখ মামলায় বিএনপির ৩৫ লাখ লাখ নেতাকর্মী আসামি। তাদের অনেকে এখন জেলে। তাদের সবাইকে মুক্তি দিতে হবে।

ফখরুল বলেন, আমরা অনেক কথা বলেছি, অনেক সভা করেছি, অনেক দাবি জানিয়েছি। গণতন্ত্রের মুক্তি ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলন করেছি, আমরা নির্বাচনও করেছি। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন। তাঁকে মামলা দিয়ে রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি গুরুতর অসুস্থ, নিজের হাতে খেতে পারেন না, চলতেও পারে না। দুই বছর বিনা কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা এবার আন্দোলন করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব। জনগণের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাঁকে মুক্ত করতে হবে। তবে আমরা সরকারকে আবারও বলছি, অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তা নাহলে আপনারাই দায়ী হবেন, জনগনের কাছে জবাবদিহি আপনাদেরই করতে হবে।

ফখরুল বলেন, এ সরকার আইন বিশ্বাস করে না। তারা ক্ষমতায় টিকে রয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে। এই সরকার জনগণের সরকার নয়। কারণ, তারা গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করে দিয়েছে, দেশের বিচার ব্যবস্থা এখন স্বাধীন নয়। একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। তাই দেশকে এ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ফখরুল বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। একদিন অর্থমন্ত্রী বললেন সবদিক থেকে অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখি, আবার আরেকদিন বললেন অর্থনীতির অবস্থা ভালো না। এরপর অর্থমন্ত্রীর চাকরি থাকে কি করে? ফখরুল বলেন, রফতানি আয় এখন নীচের দিকে, রাজস্ব আয়ও কমে গেছে, কিন্তু দুর্নীতি কমেনি। বরং দুর্নীতি অনেক বেড়ে গেছে।

ফখরুল বলেন, এ সরকারের আমলে দুর্নীতির জন্য যুবলীগের সভাপতিকে বাদ দিতে হয়েছে, ছাত্রলীগের সভাপতিকে বাদ দিতে হয়েছে। তাই জনগণ এখন আর আওয়ামী লীগকে চায়না। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে তারা শপথ নিয়েছে গণতন্ত্রের চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য। কিন্তু তারা তা করেনি। তারা গণতন্ত্রের চেতনাকে ধ্বংস করেছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ বলেন, ২ বছর ধরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। তার সুচিকিৎসা হচ্ছে না। আমরা বার বার বলার পরও তাঁকে বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। তাঁকে জামিনও দেয়া হচ্ছে না। তাই আর সময় নেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালৈদা জিয়াকে আন্দোলন করেই মুক্ত করতে হবে। এ জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐখ্যবদ্ধ হতে হবে।

ড. মোশাররফ বলেন, খালেদা জিয়াকে গায়ের জোরে কারাগারে রাখা হয়েছে। তাকে শুধু কারাগারে রাখা হয়নি, সারা বাংলাদেশকেই কারাগারে রাখা হয়েছে। একটিই উদ্দেশ্য এ সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। দেশবাসীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ২০১৪ সালে সংসদ নির্বাচন জনগন বয়কট করেছিলো, কেউ ভোট দেয়নি। তারপরও এই সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় বসেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, যে মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন পেতে পারেন সে মামলায় তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তাই রাজপথে আন্দোলন করেই তাঁকে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, ঢাকার নতুন ২ মেয়র মেশিনের মেয়র, জনগণের ভোটের মেয়র নন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ জানে তারা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তারা জনগণের ঘাড়ে চেপে বসে আছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। তিনি মুক্তি পেলেই জনগণ মুক্তি পাবে, গণতন্ত্র মুক্তি পাবে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আওয়াল বলেন, আমাদের শক্তি হলো দেশের জনগণ। আর আওয়ামী লীগের শক্তি হলো প্রশাসন। সারাদেশের মানুষ খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তাকিয়ে আছে। তিনি অবশ্যই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন।

বেলা সোয়া ২টায় বিএনপির সমাবেশ শুরু হয়। তবে দুপুর ১টা থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফ্যাস্টুন ও প্লাকার্ডসহ খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হয়।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্ল বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, মো. শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, এ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবীব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইন, ছাত্র দলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।